কায়েস ইবনে আবু হাযেম রা. বলেন, "আমি দেখেছি সেদিন আঘাতের কারণে তালহার হাত অবশ ও নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিলো। তিনি এই হাত দিয়েই নবী সা.কে রক্ষা করেছিলেন।"
![]() |
| Photo Source : Unsplash |
একজন জীবন্ত শহীদের গল্প বলছি। ওহুদ যুদ্ধে যিনি বীরত্বের এক নজিরবিহীন রেকর্ড করেছিলেন। যিনি পৃথিবীতেই জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া একজন সৌভাগ্যবান সাহাবী। তাঁর নাম হযরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা.। ওহুদ যুদ্ধে তালহা রা. এর বীরত্ব ও সাহসিকতার নজিরবিহীন রেকর্ডের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: 'যদি কেউ কোনো শাহাদাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পৃথিবীতে হেঁটে বেড়াতে দেখে আনন্দ পেতে চায়, তাহলে সে যেন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহকে দেখে।'
সাজেদা হোমায়রা{iiWriter}
ইসলামের সূচনা পর্বেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে ইসলামের ছায়াতলে আসার সৌভাগ্য হয়েছিলো তাঁর। ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ ১৩ বছর প্রচণ্ড নির্যাতন সহ্য করে অসীম ধৈর্যের সাথে মক্কায় থাকার পর ৬২২ খৃষ্টাব্দে অন্যান্য মুসলিমদের সাথে তিনিও মদীনায় হিজরত করেছিলেন।
হিজরী ৩য় সনে মক্কার মুশরিকদের সাথে সংঘটিত ওহুদ যুদ্ধ। এ যুদ্ধে তালহা রা. এক হাতে তলোয়ার ও অন্য হাতে বর্ষা নিয়ে কাফিরদের উপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালান।
যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুসলিম বাহিনী যখন দারুণ বিপর্যয়ের সম্মুখীন, তখন যে অল্প ক'জন সৈনিক আল্লাহর রাসূলকে ঘিরে প্রতিরোধ সৃষ্টি করেন, তালহা রা. তাদের অন্যতম।
এ যুদ্ধেই রাসূল সা. আহত হন এবং তাঁর দাঁত মুবারক শহীদ হয়। সে সময় তালহা রা. ছুটে এসে আহত রাসূল সা.কে কাঁধে করে পাহাড়ের উপর এক স্থানে নিয়ে এসেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিরাপত্তায় কাফেরদের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকেন। আল্লাহর রাসূলের নিরাপত্তায় কাফেরদের নিক্ষেপ করা তীরের সামনে তিনি নিজের বুক পেতে দেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যখন নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতর থেকে যুদ্ধের ময়দানের অবস্থা দেখতে একটু মাথা উঁচু করেছিলেন, তখনই তালহা রা. বলে উঠেছিলেন- ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি উঁকি দেবেন না, মাথা উঁচু করবেন না। কাফেরদের নিক্ষেপ করা তীর আপনার পবিত্র দেহে লাগতে পারে। আমার বুক আপনার বুকের সামনে উৎসর্গিত।’ (বুখারি)
ইতিমধ্যে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে আবু বকর রা. ও আবু উবাইদা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সেবা করতে এগিয়ে আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের বললেন, 'আমাকে ছাড়ো, তোমাদের বন্ধু তালহাকে দেখো...'
আবু বকর রা. বলেন, 'আমরা তাকিয়ে দেখি, তালহা রা. রক্তাক্ত অবস্থায় একটি গর্তে অজ্ঞান হয়ে আছেন। তাঁর একটি হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় এবং সারা শরীরে তীর বর্ষার ৭০ টিরও বেশি আঘাত!'
কায়েস ইবনে আবু হাযেম রা. বলেন, "আমি দেখেছি সেদিন আঘাতের কারণে তালহার হাত অবশ ও নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিলো। তিনি এই হাত দিয়েই নবী সা.কে রক্ষা করেছিলেন।" (বুখারী, ৪/৩৭৬০)
কী প্রাণপন যুদ্ধ করেছিলেন তালহা রা.! আবু বকর রা. ওহুদ যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠলেই বলতেন, "সে দিনটির সবটুকুই তালহার!" উমর রা. তো তালহা রা.কে "সাহেবে ওহুদ" (ওহুদ ওয়ালা) বলে ডাকতেন। এ যুদ্ধেই হযরত তালহার অসাধারণ ভূমিকায় মুগ্ধ হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে জান্নাতে সুসংবাদ দিয়েছিলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কী বিষ্ময়করভাবে ভালোবাসার প্রকাশ করেছিলেন তালহা রা.। কী আবেগময় এই ভালোবাসা ! ওহুদ যুদ্ধে তাঁর বীরত্ব ও সাহসিকতার সেই দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য এক অসাধারণ অনুপ্রেরণা !
সর্বশেষ সংস্করনঃ 2022-10-05T13:28:09+06:00
